আওয়ামী লীগের সরকারের সময় টিএফআই-জেআইসি সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক দুই মামলায় সেনাবাহিনীর ১৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শুনানি পিছিয়েছে। এর জন্য আগামী ৩ ও ৭ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। তদন্ত সংস্থার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি গোলাম মোর্তোজা মজুমদার নেতৃত্বে দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ আজ রোববার এদিন ধার্য করেন।
এদিন সেনাবাহিনীর ১৩ কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এ দুই মামলায় ক্ষমতারচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ আসামি রয়েছেন ৩০ জন।
আজ সকাল ১০টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় প্রিজনভ্যানে করে সেনাবাহিনীর ১৩ কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। এরপর প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে একে একে সেনা কর্মকর্তাদের হাজতখানায় নেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালে আনা সেনা কর্মকর্তারা হলেন- র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে), র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
এদিকে, সেনা কর্মকর্তাদের হাজির করা উপলক্ষে সকাল থেকেই ট্রাইবুনাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ ঘিরে নিরাপত্তায় রয়েছেন পুলিশ, বিজিবি-র্যাব সদস্যরা।
শেখ হাসিনার পক্ষে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগ পেলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না
গুমের এই দুই মামলায় পলাতক শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী জেড খান পান্নাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল-১ আজ এ নিয়োগ দেন। পাশাপাশি এ মামলার অন্যান্য আসামিদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।