বগুড়ায় অভিযান চালিয়ে কথিত রকি বাহিনীর প্রধান রকি মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। শনিবার (১ আগস্ট) রাতে সদর উপজেলার ঠেঙ্গামারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের সময় রকি বাহিনীর তিন নারী সদস্যসহ আরও ছয়জন পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পলাতক ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, রকি মিয়া বেশ কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা দলটি স্থানীয়দের ভয়ভীতি দেখানোসহ নানা অপরাধে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া রকির স্ত্রী রাইসা ও তাঁর দুই বান্ধবীর বিরুদ্ধেও প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, তাঁরা কৌশলে বিভিন্ন বয়সী ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন। বিষয়টি পুলিশের নজরে আসার পর গোয়েন্দা অনুসন্ধান শুরু হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে ঠেঙ্গামারা এলাকায় রকি বাহিনীর একটি আস্তানার সন্ধান পায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে রকি মিয়া ও তাঁর দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে একটি বিদেশি রিভলভার ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি চায়নিজ কুড়াল, রামদা ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র জব্দ করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে মাদকও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রকির স্ত্রী রাইসা, তাঁর দুই বান্ধবী এবং আরও তিন যুবক পালিয়ে যান। তাঁদের ধরতে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে তাঁদের সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও মাদকের উৎস কোথায়, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, রকি বাহিনীর অপরাধ নেটওয়ার্কের বিস্তার এবং পলাতক সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।