চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার হওয়া আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে খুন ও অস্ত্র উদ্ধারের পৃথক দুটি মামলায় মোট ১০ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (২ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুতাসিম বিল্লাহ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ জানান, ফটিকছড়ি থানার জামাল হত্যা মামলায় পাঁচ দিন এবং অস্ত্র উদ্ধারের মামলায় আরও পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। একই অস্ত্র মামলায় ইমনের চার সহযোগীকেও পাঁচ দিন করে রিমান্ড দেওয়া হয়েছে।
এদিকে হাটহাজারীর বড়দিঘির পাড় এলাকায় এক ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলায়ও ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রিমান্ড শুনানিকে ঘিরে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সকালে কড়া পুলিশি পাহারায় কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ইমনকে আদালতে আনা হয়। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জায়েদ মুহাম্মদ নাজমুন নূর জানান, নিরাপত্তার স্বার্থেই আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।
গত বুধবার যশোর থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ডেভিড ইমন ও তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তিনি পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। বর্তমানে চট্টগ্রামে তার সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন তিনি।
পুলিশের দাবি, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে নিয়মিত চাঁদা দাবি করতেন তিনি। চাঁদা না দিলে হত্যার হুমকি এবং গুলি করার ভয় দেখানোরও অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি নগরের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে দুই কোটি টাকা এককালীন এবং মাসিক ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ফোনে নিজেকে ডেভিড ইমন পরিচয় দিয়ে ব্যবসা পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তে পুলিশ আরও জানিয়েছে, ২০২৪ সালের পর বড় সাজ্জাদের দলে যুক্ত হয়ে দ্রুতই অন্যতম প্রধান সহযোগীতে পরিণত হন ইমন। পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামের একাধিক আলোচিত হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে। অস্ত্র ব্যবহারে দক্ষ এই সন্ত্রাসীর মাধ্যমে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র পরিচালিত হতো বলেও দাবি তদন্ত সংশ্লিষ্টদের।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অস্ত্রের উৎস, সহযোগীদের পরিচয়, চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক এবং বিভিন্ন হত্যা মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।