জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মঙ্গলবার সরকারি চাকরিতে বিশাল শূন্যপদ পূরণ, বিচার বিভাগের মামলার জট নিরসন, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন এবং স্বাস্থ্য খাতের ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযান, বিরোধী দলের কর্মসূচির নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সংসদ সদস্যরা মতামত তুলে ধরেন।
অধিবেশনের শুরুতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী দেশের সরকারি চাকরির বর্তমান জনবল কাঠামোর তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত থাকলেও এখনো ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি পদ শূন্য রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব শূন্যপদ পূরণে সরকার নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ৪৪তম বিসিএস থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে নিয়োগের সময় কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ৫০তম বিসিএসের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক বছরের মধ্যে নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংসদে প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযান প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে থেকে যারা জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করা ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে দেশের বিচার ব্যবস্থায় মামলার দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগ এবং অধস্তন আদালত মিলিয়ে দেশে বর্তমানে ৪৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪৭৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে উচ্চ আদালতেই কয়েক লাখ মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে।
মামলার জট কমাতে বিচারকের সংখ্যা বাড়ানোসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন বিচারকের পদ সৃষ্টি এবং বিচারিক কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম নিয়েও সংসদে তথ্য দেওয়া হয়। আইনমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গুম, হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পলাতক আসামিদের পক্ষ থেকে আইনি লড়াই নিশ্চিত করতে সরকারি খরচে স্টেট ডিফেন্স ল’ইয়ার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংসদে স্বাস্থ্য খাতের একটি সংশোধনী বিল নিয়েও আলোচনা হয়। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়লে চিকিৎসা ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। তিনি চিকিৎসাকে ব্যবসায়িক খাতে পরিণত না করার আহ্বান জানান।
এ ছাড়া সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনাও সংসদে আলোচনায় আসে। বিরোধীদলীয় সদস্যরা ঘটনার তদন্ত, জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়।
অধিবেশনে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়। নতুন আইনে ডিজিটাল কারসাজি, পরীক্ষার তথ্য পরিবর্তন, হ্যাকিং ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ডিজিটাল অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। বিলটি অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।