টানা দরপতনের চাপ কাটিয়ে আবারও ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে দেশের পুঁজিবাজার। মঙ্গলবার সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে বিমা খাতের শক্তিশালী উত্থান এবং বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক মনোভাবের প্রভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম—উভয় শেয়ারবাজারেই সূচক বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন কমিশনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ও বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারের ওপর থাকা সর্বশেষ ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাজারে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার লেনদেনের শুরু থেকেই বিমা খাতের বেশিরভাগ শেয়ারে ক্রয়চাপ দেখা যায়। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ খাতের উত্থান আরও জোরালো হয়। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উৎপাদন ও সেবা খাতেও।
দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ১০০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫১টির। শুধু বিমা খাতেই ৫১টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫১৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক বেড়েছে ৩ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ১০ পয়েন্ট। শেষ ১১ কার্যদিবসের মধ্যে ১০ দিনই সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকল।
লেনদেনেও গতি ফিরেছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৩১৫ কোটি টাকার বেশি। সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে এনসিসি ব্যাংকের শেয়ারে।
বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, বুধবার থেকে ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর শেয়ারে আর ফ্লোর প্রাইস থাকবে না। এর মাধ্যমে ২০২২ সালে শুরু হওয়া ফ্লোর প্রাইস ব্যবস্থার পুরোপুরি অবসান ঘটছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে দামে ওঠানামা বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে এটি বাজারকে স্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় ফিরতে সহায়তা করবে।