ঐতিহাসিক ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর উদ্দেশ্যে এক বাণী দিয়েছেন। বুধবার (১৫ জুলাই) তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করে দেশের সর্বক্ষেত্রে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের এই দিনে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে কলেজ শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ কমপক্ষে ছয় জন শহীদ হন। রংপুরে দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দাঁড়ানো শহীদ আবু সাঈদের দৃশ্য জনগণের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। এর ধারাবাহিকতায় কোটা সংস্কারের দাবিতে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলন গড়ে ওঠে, যা শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।
প্রধানমন্ত্রী সকল শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি আন্দোলন ছিল না, বরং দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি, গুম, খুন, দমন-পীড়ন এবং ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধ। শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাদের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা নতুনভাবে প্রতিষ্ঠার সুযোগ পায়।
তারেক রহমান আরও বলেন, বর্তমান সরকার শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে না, এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনের প্রেরণা হবে।
বার্তার শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের গণতন্ত্র, মানবিক মূল্যবোধ এবং নাগরিক অধিকারভিত্তিক নিরাপদ ও স্বনির্ভর সমাজ গঠনের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো হবে। এছাড়া, আন্দোলনে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি।
এই দিনটির স্মরণ দেশকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ঐতিহাসিক সাহসের দিকে সচেতন করার সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে।