টাঙ্গাইলের সখীপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সামিয়া আক্তারের অপহরণ ও হত্যার মামলায় আদালত সাব্বির মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ ন ম ইলিয়াস এই রায় ঘোষণা করেন। সাব্বির মিয়া (২১) সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর (উত্তরপাড়া) গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে সামিয়া আক্তার নিয়মিত প্রাইভেট ক্লাসে যাওয়ার পথে আসামি তাকে পেছন থেকে মুখ চেপে ধরে অপহরণ করেন। পরে তাকে পাশের জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ধানক্ষেতের ড্রেনে কাঁদামাটি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এরপর সাব্বির ভয়েস এসএমএসের মাধ্যমে সামিয়ার বাবা থেকে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। পরের দিন মামলা দায়ের করা হয় এবং ৮ সেপ্টেম্বর ধানক্ষেত থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করে। আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন এবং নিজ দোষ স্বীকার করেন। ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি চার্জশিট দাখিল করা হয়। মোট ১৮ জন সাক্ষী এই মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।
বিচারের পর আদালত আসামিকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া অপহরণের দায়ে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে আটক রাখার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টাসহ আলামত পুড়িয়ে ফেলার দায়ে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
এই রায় সামিয়ার পরিবারের প্রতি ন্যায় নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশু ও নারীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইনি ব্যবস্থা জোরদারের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। মামলার গুরুত্ব, তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, এবং আদালতের কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি শিশু নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করেছে।