নিজস্ব প্রতিবেদক
সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন হয়ে মেয়াদপূর্তির আগেই আমানত ভেঙে ফেলা গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সুযোগ ঘোষণা করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। ব্যাংকটি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে একই ধরনের হিসাব পুনরায় চালু করলে প্রি-ম্যাচিউর নগদায়নের কারণে আরোপিত খরচ, চার্জ ও আর্থিক ক্ষতি মওকুফ করা হবে।
সোমবার ব্যাংকের এক বিশেষ নোটিশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়েছে, ১ জুন থেকে ১৫ জুন ২০২৬ সময়ের মধ্যে যেসব গ্রাহক এমটিডিআরএ, এমএসবি, এমএমপিডিএস ও এমএসএসএ হিসাব মেয়াদপূর্তির আগে বন্ধ বা নগদায়ন করেছেন এবং এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব পুনরায় চালু করতে পারবেন।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হিসাব নতুন হিসাব হিসেবে গণ্য হবে না। বরং আগের হিসাবের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। ফলে গ্রাহকরা আগের আমানতের সুবিধা ফিরে পাবেন। চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গ্রাহকস্বার্থ সুরক্ষা এবং আস্থা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে কিছু গ্রাহক আতঙ্কিত হয়ে আগেভাগে আমানত তুলে নিয়েছিলেন। এতে তারা নির্ধারিত মুনাফা বা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ইসলামী ব্যাংকের নতুন ঘোষণা সেই গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির বার্তা হতে পারে।
ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের গুজব বা বিভ্রান্তিতে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট শাখা বা ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক গ্রাহক আবার আমানত হিসাব চালু করতে আগ্রহী হবেন। এতে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা আরও দৃঢ় হতে পারে।
এ ঘোষণায় বলা হয়েছে, গ্রাহককে আগের হিসাবের তথ্য, নগদায়নের কাগজপত্র এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র নিয়ে শাখায় যোগাযোগ করতে হবে। ব্যাংক কর্মকর্তারা যাচাই শেষে হিসাব পুনরায় সক্রিয় করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। নির্ধারিত সাত কর্মদিবস পার হলে এই বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে নোটিশে আলাদা কিছু বলা হয়নি। তাই আগ্রহী গ্রাহকদের দ্রুত শাখায় যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটির আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অস্থিরতার সময়ে তৈরি হওয়া ভুল সিদ্ধান্তের ক্ষতি কমবে এবং আমানতকারীরা আবার স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে ফিরতে পারবেন. শাখাগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বলা হয়েছে।