কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় বিএনপি নেতা জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামির তথ্য অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর বিষয় সামনে এসেছে। তাদের মধ্যে একজন স্বীকার করেছেন যে, তারা সিরিয়াল কিলার হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা পেয়ে জাহাঙ্গীর হত্যার জন্য পাঠানো হয়েছিল। পুলিশের জবানবন্দিতে মো. হেলাল জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ‘খোকা’ তাদেরকে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত করে আনা হয়।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, বুধবার (১৫ জুলাই) রাত ৯টার দিকে জাহাঙ্গীর নিজের বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। তিনি মিঠামইন বাজার থেকে সহকর্মী হাদিস মিয়া সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন। ওতপেতে থাকা দুষ্কৃতিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে আহত করে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন- বরগুনার বামনা উপজেলার মো. হেলাল, লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার মো. মহিন উদ্দিন এবং একই উপজেলার নাগমুদ বাজার মধ্যপাড়া এলাকার মো. শাকিল হোসেন ওরফে শাহীন। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, তারা গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে হত্যা মিশনে পাঠানো হয়।
পুলিশের ধারণা, নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ড ‘খোকা’ হলেন মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন খোকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নাম এবং ছবি ভাইরাল হওয়ায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, জাহাঙ্গীর হত্যার মূল হোতা সহ জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের সনাক্তের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
বাদ জুমা জানাজার পর জাহাঙ্গীরকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মো. ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং স্থানীয় গণ্যমান্যরা।
এই ঘটনার মাধ্যমে মিঠামইন ও কিশোরগঞ্জে রাজনৈতিক সহিংসতার তীব্রতা এবং স্থানীয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকারীদের ধারা বন্ধে, নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ড খুঁজে বের করতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অভিযান চলমান রয়েছে।