রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে চিকিৎসা সংক্রান্ত অভিযোগ তুলে ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওহিদুর রহমান নিক্সন। তবে সেই ঘটনায় কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তার স্ত্রী ও সদ্যোজাত সন্তান মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জবি ছাত্রদল আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল।
পরিবারের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ২৫ জুন প্রসবজনিত জটিলতার কারণে নিক্সন তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে জরুরি বিভাগের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যান। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ও চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ তোলেন। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। নিক্সনের সহযোগী মেহেদী হাসান হিমেল অভিযোগ করেন, তিনি হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ ও সাহায্যের অনুরোধ করেন, কিন্তু প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি।
হিমেল আরও জানান, হাসপাতালের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা এবং তার ওপর চাপ প্রয়োগের ফলে তিনি চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় বাধাগ্রস্ত হন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হিমেল অভিযোগ করেছেন, ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ভেজাল করে মিডিয়ায় প্রচার করা হয়, অথচ প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল শুধু একজন মায়ের জীবন রক্ষা করা।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে খবরটি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্র, প্রাক্তন ছাত্র ও শিক্ষার্থী গ্রুপগুলোও শোক প্রকাশ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন, নিক্সন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্ত্রী ও নবজাতককে বাঁচানোর জন্য সবরকম চেষ্টা করেছেন। তবে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে ধীর ও অসম্পূর্ণ চিকিৎসার কারণে তাঁরা বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে mehrfach যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও পাওয়া যায়নি। নিক্সনের পরিবার এবং জবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন, যাতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
এই ঘটনা শিক্ষার প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যখাতের দায়িত্বশীলদের প্রতি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রোগীর জীবনের নিরাপত্তা এবং জরুরি চিকিৎসার প্রক্রিয়া সবসময় অগ্রাধিকার পেতে হবে।