২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেন ১–০ গোলে আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে ১৬ বছর পর আবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে ওঠে। ম্যাচের প্রথম মুহূর্তেই পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামসের হেডে ফেরান তোরেস গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন। এই একটি গোলই নির্ধারণ করে ফাইনালের ফলাফল।
নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আর্জেন্টিনার রক্ষণ অদ্ভুতভাবে স্থির ছিল না। লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও রদ্রিগো দি পল রক্ষণে অবহেলা করেছেন। লিসান্দ্রো মার্তিনেজের হলুদ কার্ড এবং পরে চোটও তাদের প্রতিরোধকে দুর্বল করেছে। তবে গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ অবিশ্বাস্য পারফর্ম করে একের পর এক শট রোধ করেছেন।
স্পেনের আক্রমণ ঢেউয়ের মতো চলতে থাকে। প্রথম মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই লামিনে ইয়ামাল দানি ওলমোর কাছে বল ঠেলে দেন। বল ফিরে আসে, শট নিলে তা সামান্য বাঁক নিয়ে মার্তিনেজ থামান। পুরো ম্যাচে স্পেন বলের দখল ধরে রাখে, আর্জেন্টিনা কেবল প্রতিরোধের চেষ্টা করে।
মেসি এই ফাইনালে পূর্বের তীক্ষ্ণতা দেখাতে পারেননি। তারকা ফুটবলার মাঠে ছিলেন, তবে কার্যকর উপস্থিতি সীমিত ছিল। আর্জেন্টিনার একমাত্র আশা ছিল গোলকিপার মার্তিনেজের দক্ষতায়। তিনি হেডার, শট এবং আক্রমণকে বাধা দেন। ৯০ মিনিট শেষে তাঁর সেভের সংখ্যা ১০, যা বিশ্বকাপ ফাইনালে বিরল।
সংক্ষিপ্ত সময়ের অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেস আরেকবার গোল করেন। যদিও অফসাইডের কারণে এটি বাতিল হয়, তবু এই গোল স্পেনকে চূড়ান্ত জয় নিশ্চিত করে। রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের শেষ বাঁশি বাজার পর স্পেনের দল মাঠে ছুটে যায়, উদযাপন করে তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়।
স্পেনের এই জয় তাদের ২০১০ সালের বিশ্বকাপ জয় পুনরাবৃত্তি হিসেবে ইতিহাসে লেখা হলো। আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেছে, আর স্পেনের জার্সিতে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জড়ানো হলো।