বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগের পর এক প্রতিবন্ধী তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় নূর মোহাম্মাদ নামে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত তরুণীর নাম মিম। তার বয়স ২২ বছর। শনিবার রাতে উপজেলার উত্তর ফুলহাতা গ্রামে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের অভিযোগ, কিছুদিন আগে পানি সংগ্রহের জন্য নূর মোহাম্মাদের বাড়িতে গিয়েছিলেন মিম। সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
মিমের বাবা মিলন জমাদ্দার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মোরেলগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় নূর মোহাম্মাদকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে ধর্ষণচেষ্টা ও মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে নূর মোহাম্মাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রোববার সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, তরুণীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। মামলার একমাত্র আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পুলিশ বলছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, পরিবারের বক্তব্য, স্থানীয়দের তথ্য এবং ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে চিকিৎসা প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত শেষ করে সত্য ঘটনা সামনে আনার দাবি জানিয়েছেন। পরিবারের দাবি, মিম শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেকটাই অসহায় ছিলেন। তাই অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সংবেদনশীল এ ধরনের মামলায় অভিযোগ, সাক্ষ্য ও চিকিৎসা নথি সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হয়। কোনো পক্ষের বক্তব্যকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়া হচ্ছে না। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত এগোবে এবং প্রয়োজন হলে আরও সাক্ষ্য সংগ্রহ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এখন তদন্তে।