ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার নাগরিকরা সদরের যৌক্তিক স্থানান্তরের দাবিতে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল পালন করেছেন। রোববার সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল এবং টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা-ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। বাস, ট্রাক এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন সড়কে আটকা পড়ে এবং যাত্রীরা বিরাট ভোগান্তিতে পড়েন।
অভিযোগ রয়েছে, সদরের নাম জালিয়াতির মাধ্যমে ভুজপুর মৌজায় স্থানান্তর করা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন, যেহেতু উপজেলা নামের সঙ্গে ‘উত্তর’ যুক্ত, তাই সদর দপ্তরও উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত হওয়া উচিত। তারা বলেন, এ পদক্ষেপ না নিলে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।
হরতালের কারণে নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেয়াঁকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার এলাকায় অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফার্মেসি ও ক্লিনিক খোলা ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে সতর্ক অবস্থানে ছিল।
ফটিকছড়ি উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের নেতাকর্মীরা জানান, সরকার ও প্রশাসনের সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় ছাড়া জনগণের দাবির অবহেলা হলে আন্দোলন আরও কঠোর রূপ নেবে। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, সরকারের নীতি ও প্রশাসনের পদক্ষেপের মাধ্যমে সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের সুবিধা বিবেচনায় রেখে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই হরতাল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি স্থানীয় জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর তাদের আস্থা প্রতিফলিত করছে।