কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে একটি সাইনবোর্ড। আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের মধ্যে তৈরি হওয়া এই বিরোধে সম্প্রতি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।
২০২৩ সালে ভৈরব-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের বসানো একটি সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড থেকেই বিরোধের সূত্রপাত বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সবুজ পটভূমিতে সাদা অক্ষরে লেখা ছিল— ‘আকবরনগর বাজার। উল্টো পথে আর নয়, নিয়মনীতির হবে জয়।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাইনবোর্ডে শুধু ‘আকবরনগর বাজার’ লেখা হলেও ওই এলাকার সঙ্গে মিরারচর গ্রামের মানুষেরও দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। সাইনবোর্ডে একটি গ্রামের নাম থাকায় অপর গ্রামের মানুষ বিষয়টি নিজেদের অবমূল্যায়ন হিসেবে দেখেন। ধীরে ধীরে এ নিয়ে বিরোধ বাড়তে থাকে।
সম্প্রতি ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের মিরারচর ও আকবরনগর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে মিরারচর গ্রামের মাসুদ ও হিরণ নামে দুজন নিহত হন। সংঘর্ষে আহত হন অন্তত ২৫ জন। এ সময় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি কয়েক ঘণ্টা বন্ধ ছিল ভৈরব-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিষয়টি শুধু একটি নামের বিরোধে সীমাবদ্ধ নেই। তিন বছরে এই একটি সাইনবোর্ড দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে সামাজিক সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিশ্বাসে ফাটল তৈরি করেছে। আগে যেখানে দুই গ্রামের মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক অনুষ্ঠানে একসঙ্গে অংশ নিতেন, এখন সেখানে তৈরি হয়েছে বিভাজন ও অবিশ্বাস।
কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লিটন মিয়া অভিযোগ করেন, স্থানীয় মানুষের মতামত না নিয়েই সওজ একটি গ্রামের নাম উল্লেখ করে অন্য গ্রামের নাম বাদ দিয়েছে। তাঁর মতে, একটি সাইনবোর্ডকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিরোধ এখন বড় ধরনের সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের এই বিরোধ নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা এমন কোনো সিদ্ধান্ত চান, যাতে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে আবারও শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক ফিরে আসে।