দেশের ব্যাংকিং খাতে আলোচিত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি গ্রাহকদের প্রতি নতুন করে কৃতজ্ঞতার বার্তা দিয়েছে। রবিবার এক বিবৃতিতে ব্যাংকটি জানায়, অগণিত গ্রাহকের অবিচল আস্থা, ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য তারা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।
ব্যাংকটির ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গ্রাহকরা দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী ব্যাংকের প্রতি যে বিশ্বাস দেখিয়েছেন, সেটিই প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় শক্তি। সাম্প্রতিক সময়ে তারল্য সংকট, আমানত উত্তোলনের চাপ এবং মালিকানা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেও অনেক গ্রাহক ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।
ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কোনো ব্যাংকের মূল ভিত্তি হলো আমানতকারীদের আস্থা। মূলধন, শাখা নেটওয়ার্ক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও গ্রাহকের বিশ্বাস ছাড়া ব্যাংকিং কার্যক্রম টেকসই হয় না। তাই ইসলামী ব্যাংকের কৃতজ্ঞতা প্রকাশকে শুধু আনুষ্ঠানিক বার্তা নয়, বরং সম্পর্ক পুনর্গঠনের কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এদিকে মূল মালিকদের কাছে ইসলামী ব্যাংক ফিরিয়ে দেওয়াসহ সাত দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাংকটি নানা বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। বিশেষ করে তারল্য সংকটের খবর প্রকাশের পর আমানতকারীদের একটি অংশ টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করেন। এতে ব্যাংকের ওপর চাপ বাড়ে।
ব্যাংকটির কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রাহকদের আস্থা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভূমিকা রাখছে। শাখাগুলোতে লেনদেন আগের তুলনায় স্বাভাবিক হয়েছে এবং আতঙ্ক কমেছে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেই আস্থা পুরোপুরি ফিরবে না। এজন্য সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রাহকসেবার মান উন্নয়ন জরুরি। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের মূলনীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে পারলে ইসলামী ব্যাংক আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের মতো বড় গ্রাহকভিত্তির প্রতিষ্ঠানের স্থিতিশীলতা পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। লাখো পরিবার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও প্রবাসীর আর্থিক সম্পর্ক এই ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত। তাই আস্থা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা সফল হলে তা সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্যাংকটি বলছে, ভবিষ্যতেও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন, উন্নত গ্রাহকসেবা ও শরিয়াহভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করে গ্রাহকদের আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে চায়। এখন দেখার বিষয়, এই বার্তা বাস্তব কার্যক্রমে কতটা প্রতিফলিত হয়। সেটিই হবে ব্যাংকটির দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এখন সামনে।