জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে এবং ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হয়েছে। তিন সপ্তাহ ধরে সংসদ সদস্যদের আলোচনা, সমালোচনা ও ৬৮টি সংশোধনী প্রস্তাবের পর কণ্ঠভোটে বাজেট পাস হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সংসদ সদস্যদের মতামত ও সুপারিশ বিবেচনায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বাজেট পাসের মাধ্যমে দেশের করনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা, রাজস্ব আদায় এবং বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ চূড়ান্ত করা হয়েছে। করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন দাখিলের শর্তও শিথিল করা হয়েছে, যাতে করযোগ্য আয় না থাকা মানুষদের সুবিধা হয়। বহুল আলোচিত ‘কালো টাকা সাদা’ করার সুযোগ বাতিল করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের জন্যও কিছু ছাড় ও কর-বাতিল প্রণয়ন করা হয়েছে। ক্ষুদ্র মুদি দোকানদারদের প্যাকেজ ভ্যাটে আনা হবে না, তবে অপেক্ষাকৃত বড় ব্যবসার ওপর প্যাকেজ ভ্যাট প্রযোজ্য থাকবে। বাজেটের মাধ্যমে সরকার ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যার মধ্যে এনবিআর মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার আদায় আশা করা হচ্ছে। বাজেটে ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ।
এই বাজেট দেশের মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রাখে। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, বাজেটে মানবিক অর্থনীতি গড়ে তোলার সমন্বিত রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে তিন বছরের রোডম্যাপও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সংসদে বাজেট অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ৫৯টি ব্যয় নির্বাহের মঞ্জুরি দাবিও কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়েছে। বিরোধী দল ১,৩৪২টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করলেও সব নাকচ হয়েছে। পাস হওয়া বাজেট দেশের ৫৫তম এবং চলতি বছরের জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
সংক্ষেপে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল, গতিশীল ও মানবিকভাবে উন্নত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।