২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্র পরিচালনায় ফিরে আসা বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। বাজেটের মূল দর্শন ধরা হয়েছে—‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন ও বিনিয়ন্ত্রণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অভিযাত্রায় বাংলাদেশ’।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজেটের আকার বড় হলেও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ আরও বড়। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা, দুর্বল ব্যাংক খাত ও বৈদেশিক ঋণের চাপের মধ্যেই সরকারকে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথ খুঁজতে হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরেই রাজস্ব ঘাটতি এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ফলে নতুন লক্ষ্যমাত্রাকে অনেকেই উচ্চাভিলাষী হিসেবে দেখছেন। রাজস্ব আদায় কম হলে সরকারকে ব্যাংক ব্যবস্থা ও বৈদেশিক উৎস থেকে আরও ঋণ নিতে হতে পারে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে চাপ তৈরি হতে পারে।
আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতি, প্রযুক্তি, স্টার্টআপ, গবেষণা ও জ্ঞানভিত্তিক শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে। গুরুত্ব পাচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও হেলথ কার্ড। তিন লাখ কোটি টাকার এডিপি, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল এবং ভর্তুকি-প্রণোদনায় বড় বরাদ্দও থাকছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন ও বাস্তবায়ন সক্ষমতার বড় পরীক্ষা।