চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও যমুনা অয়েল পিএলসির মধ্যে ১ হাজার টনের বেশি বিটুমিনের বিল নিয়ে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বিরোধ চলছে। ১৯৮৪ সালে সরবরাহ করা ওই বিটুমিনের মূল্য ৫৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা হলেও ৪২ বছর পরও এর নিষ্পত্তি হয়নি।
সম্প্রতি বকেয়া আদায়ের জন্য আবারও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে চিঠি দিয়েছে যমুনা অয়েল। গত ২১ জুলাই পাঠানো ওই চিঠিতে দ্রুত বকেয়া পরিশোধের দাবি জানানো হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ১৯৮৪ সালে। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চট্টগ্রাম সফর উপলক্ষে নগরের বিভিন্ন সড়ক দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় যমুনা অয়েল চার দফায় ১ হাজার ৬৮ মেট্রিক টন বিটুমিন সরবরাহ করে। প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ছিল ৫ হাজার ৪০০ টাকা, যার মোট মূল্য দাঁড়ায় ৫৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
যমুনা অয়েলের দাবি, এটি ছিল বিক্রয়কৃত পণ্য এবং বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও চসিক বিল পরিশোধ করেনি। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, বকেয়া অর্থ আদায় না হওয়ায় তারা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রতি বছর নিরীক্ষা আপত্তির মুখে পড়ছে।
এ কারণে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছেও বিষয়টি জানানো হয়। এমনকি বিপিসি, চসিক ও যমুনা অয়েলের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমাধান হয়নি।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দাবি, বিটুমিনটি বিক্রি নয়, বরং তৎকালীন রাষ্ট্রপতির নির্দেশে অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। তাই ওই অর্থ পরিশোধের সুযোগ নেই। চসিকের নথিপত্রেও বিটুমিনকে অনুদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।
যমুনা অয়েলের মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) মোহাম্মদ হাসান ইমাম বলেন, অনুদানের কোনো লিখিত নথি তাদের কাছে নেই। তাদের সংরক্ষিত কাগজপত্র অনুযায়ী, মূল্যছাড়ের মাধ্যমে বিটুমিন সরবরাহ করা হয়েছিল, বিনা মূল্যে নয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের এই বিরোধ মূলত নথিপত্র ও প্রশাসনিক ব্যাখ্যার পার্থক্যের কারণে জটিল হয়ে উঠেছে। বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।