চট্টগ্রামে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাসের অপ্রতুল সরবরাহে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরমভাবে প্রভাবিত হয়েছে। নগরের আসকারদিঘির পূর্বপাড়, হাজিপাড়া ও আশপাশের এলাকায় বাসিন্দারা সকাল থেকে রান্না করতে পারছিলেন না। মাটির চুলায় রান্না করছেন অনেকেই, আবার কেউ হোটেল থেকে খাবার কিনে খেয়েছেন।
৫৫ বছর বয়সী আমেনা বেগম জানান, সকাল ১০টার পর গ্যাস চুলা নিভে যায়। তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর দুপুরের খাবার রান্না করতে সক্ষম হন। একই অভিজ্ঞতা রোকেয়া আক্তারের পরিবারও ভোগ করে; শিশুদের জন্য পানি ফুটাতে পারেননি, খাবারও সময়মতো তৈরি হয়নি।
কেজিডিসিএল সূত্রে জানা গেছে, এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। শিল্প ও শিল্পকারখানার নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা (ক্যাপটিভ পাওয়ার) খাতে গ্যাসের চাপ কমানোর কারণে আবাসিক এলাকাতেও সরবরাহ প্রভাবিত হচ্ছে। গত শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে গ্যাস এসেছে ২৩ কোটি ঘনফুট, যেখানে চাহিদা ছিল প্রায় ৩৫ কোটি ঘনফুট।
নগরের বাসিন্দারা জানান, সকালের নাশতা থেকে দুপুরের খাবার—পরিবারের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। তবে দীর্ঘ সময় চুলা জ্বলতে না পারায় মানুষ কষ্টে পড়ছে। আরপিজিসিএলের এলএনজি বিভাগ জানায়, মার্কিন এক্সিলারেট এলএনজি টার্মিনাল চালুর জন্য বিশেষজ্ঞ কারিগরি দল কাজ করছে। সমস্যার সমাধান হলে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হবে।