নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের বিতর্কিত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সাইফুল আলম, এস আলমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মালয়েশিয়ার দুটি হোটেল এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দ্য এজ মালয়েশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এস আলমের সম্পদ ও অর্থপাচার সংক্রান্ত তদন্ত বিস্তৃত হওয়ার মধ্যেই কুয়ালালামপুরের রেনেসাঁ কুয়ালালামপুর হোটেল অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টার এবং ফোর পয়েন্টস বাই শেরাটন কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টারের দিকে নজর বাড়ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দুটি হোটেলের মালিক ভেনচুরা ইন্টারন্যাশনাল এসডিএন বিএইচডি, যা এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে। ২০১৬ সালে আইজিবি বিএইচডি রেনেসাঁ হোটেলটি ভেনচুরা ইন্টারন্যাশনালের কাছে ৭৬ কোটি ৫০ লাখ রিঙ্গিতে বিক্রি করে। পরে বড় সংস্কারের পর ২০২৩ সালের অক্টোবরে এটি মালয়েশিয়ায় ম্যারিয়টের প্রথম দ্বৈত-ব্র্যান্ড সম্পত্তি হিসেবে চালু হয়।
ম্যারিয়টের ওয়েবসাইটে এখনও দুই হোটেলের মালিক হিসেবে ভেনচুরা ইন্টারন্যাশনালের নাম রয়েছে। তবে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এসব হোটেল জব্দ করেছে বা ব্যবস্থা নিয়েছে—এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাইপ্রাসে এস আলম ও তার স্ত্রীর যৌথ মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল সম্পত্তি আদালতের নির্দেশে জব্দ হয়েছে। একই সময়ে সিঙ্গাপুরেও তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এস আলম–সংশ্লিষ্ট অর্থপাচার তদন্তে ৮০০ কোটি ইউরোর বেশি অর্থ দেশ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়া সফরের আগে বিষয়টি কূটনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে। সফরে শ্রমবাজার, অভিবাসন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। একই সঙ্গে সম্পদ পুনরুদ্ধার ও আর্থিক অপরাধে সহযোগিতার বিষয় আলোচনায় আসবে কি না, তা নিয়েও নজর রয়েছে।
দ্য এজ জানায়, হোটেল দুটির মোট কক্ষসংখ্যা ৯১৯। এগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রির বাজারে না এলেও কয়েক বছর আগে সম্ভাব্য মূল্য ১২৫ কোটি রিঙ্গিত ধরা হয়েছিল। তবে সম্পত্তি খাতের কয়েকজনের ধারণা, বাজারমূল্য ৮৫ থেকে ৯৫ কোটি রিঙ্গিতের মধ্যে হতে পারে। বাংলাদেশ যদি বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে উদ্যোগ বাড়ায়, মালয়েশিয়ার এই সম্পদও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের স্পষ্ট ঘোষণা এখনও আসেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এখনও পর্যন্ত।