ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। এ নিয়ে মোট ১৭তমবারের মতো তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ পিছিয়ে নতুন করে ১৫ জুলাই দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
রোববার (২৮ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এ মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে নির্ধারিত দিনে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়। ফলে আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রুকনুজ্জামান।
মামলার পটভূমি অনুযায়ী, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরদিন, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান।
ঘটনার পরদিন ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ওসমান হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
তদন্তে প্রথমে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) কাজ করে এবং পরে ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ নারাজি আবেদন করলে আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই মামলাটির নতুন তদন্তের দায়িত্ব নেয় সিআইডি।
তদন্ত প্রতিবেদন বারবার পিছিয়ে যাওয়ায় মামলার অগ্রগতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলার পক্ষগুলো দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৫ জুলাই নতুন তারিখে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এর আগেও একাধিকবার তারিখ পরিবর্তন হওয়ায় এই নতুন তারিখ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই মামলাটি রাজনৈতিক ও জনসচেতনতার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল এবং পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম দেশের আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।