চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত ছয়জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তবে তাদের গ্রেফতারে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
শনিবার দুপুরে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে মাসুদুল হক চৌধুরীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে অস্ত্রধারীদের ঘটনাস্থলে এসে গুলি করতে দেখা যায়।
রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সোমবার জানান, নিহতের পরিবারের কেউ এখনও মামলা করতে থানায় আসেননি। তারা এলে মামলা নেওয়া হবে। ঘটনায় জড়িত ছয়জনকে শনাক্ত করা হয়েছে, তবে কাউকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ভিডিওসহ ঘটনার বিভিন্ন তথ্য পুলিশ সংগ্রহ করেছে। যারা সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদের সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা ওই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হলেও পরে জামিনে বেরিয়ে এসেছে।
তিনি বলেন, এখন মূল কাজ হলো তাদের গ্রেফতার করা। পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে চেষ্টা করছে। তবে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, ভূজপুর ও হাটহাজারী এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান সন্ত্রাসীদের পালিয়ে থাকার ক্ষেত্রে সুবিধা দেয়। সে কারণে গ্রেফতারে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের দিনই পুলিশ পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। তবে নির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া এসব এলাকায় অভিযান কঠিন। তারপরও অপরাধীরা পার পাবে না বলে তিনি জানান।
ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন অস্ত্রধারী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চৌমুহনী বাজারে আসে। তখন মাসুদুল একটি ওষুধের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাকে লক্ষ্য করে গুলি করার পর অস্ত্রধারীরা ফাঁকা গুলি করতে করতে অটোরিকশায় পালিয়ে যায়।
পুলিশ ধারণা করছে, কোনও স্বার্থের কারণে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ভাড়াটে হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। গ্রেফতারের পর হত্যার মূল কারণ জানা যাবে।