ফেনী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের এক ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম সুতিপাল। তার বয়স ২১ বছর। তিনি বিএবিএড অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং কলেজের সরকারি হোস্টেলে থাকতেন।
নিহতের পরিবার দাবি করেছে, সুতিপালকে তার বান্ধবী রাস্তি সুলতানা ও রাস্তির প্রেমিক তানভীর হোসেন ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন। রবিবার বিকাল ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানা এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাইপাস সড়কে ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে।
নিহতের বোন চেষ্টাপাল জানান, রবিবার বিকালে একই কলেজের শিক্ষার্থী রাস্তি সুলতানা সুতিপালকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে ডেকে নেন। পরে পরিবারের কাছে খবর আসে, জোরারগঞ্জ বাইপাস সড়ক এলাকায় সুতিপাল সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে তার লাশ দেখতে পান। সোমবার দুপুরে হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
সুতিপাল চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের আনোয়ারা গ্রামের টিটু পালের মেয়ে। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে শোক নেমে আসে। স্বজনরা বলছেন, ঘটনাটি শুধু দুর্ঘটনা নয়, এর পেছনে অন্য কোনও কারণ থাকতে পারে।
ফেনী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ রমজান আলী শিকদার বলেন, ওই ছাত্রী রবিবার বিকালে প্রাইভেট পড়তে হোস্টেল থেকে বের হন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি জানতে পারেন, জোরারগঞ্জ এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর সুতিপালকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। তবে পরিবারের হত্যার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
জোরারগঞ্জ থানার ওসি মো. আবদুল হালিম বলেন, পাঁচলাইশ থানার ওসির মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন, জোরারগঞ্জ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিক্ষার্থী আহত হয়ে পরে হাসপাতালে মারা গেছেন। সোমবার বিকাল পর্যন্ত পরিবার থানায় কোনও অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে ঘটনাস্থল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও চিকিৎসা নথি যাচাই করা হবে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।