পাবনা শহরে সন্তানের সামনে আলী হোসেন নামে ৫৩ বছরের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। একই দিন পৃথক ঘটনায় মনিরুল ইসলাম নামে ২৪ বছরের এক কলেজছাত্র ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। সোমবার রাতে পাবনা পৌর এলাকার জামিয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসার সামনে এবং বিকাল ৪টার দিকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের পেছনে এসব ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা ৭টার দিকে আলী হোসেন তার সন্তানকে জামিয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসায় দিতে যান। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা সন্তানের সামনেই তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হামলার পর দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, গুলির শব্দে মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে পাবনা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত আলী হোসেন চরমপন্থি একটি দলের সদস্য ছিলেন। তবে কারা, কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
অন্যদিকে, বিকালে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার পেছনে রাকিব ও মনিরুল ইসলামের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মনিরুলকে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। মনিরুল পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, আলী হোসেনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মনিরুলের লাশ রাজশাহী থেকে পাবনায় আনা হচ্ছে। মনিরুল হত্যায় অভিযুক্ত রাকিবকে আটক করা হয়েছে। দুই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গুলির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। দুই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাসিন্দারা বলছেন, একই দিনে দুটি হত্যার ঘটনায় শহরে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ বলছে, অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।