পাবনা মানসিক হাসপাতালে দুই রোগীর মধ্যে মারামারির ঘটনায় ইনজামুল হক নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নাজমুল নামে আরেক রোগী আহত হয়েছেন। সোমবার বিকালে হাসপাতালের পরিচালক শাফকাত ওয়াহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুন গভীর রাতে আবাসিক ওয়ার্ডে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার নাজমুল ও ঝিনাইদহের ইনজামুল হকের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই ইনজামুলের মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় নাজমুলও আহত হন। তারা দুজন একই ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন এবং মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাজমুল সিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ দুই রোগীকে একই ওয়ার্ডে রাখা এবং সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও নজরদারির ঘাটতি না থাকলে এমন মৃত্যু এড়ানো যেত।
নাজমুলের স্ত্রী বিলকিস খাতুন বলেন, ভর্তির সময়ই তার স্বামীর মানসিক অবস্থার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। তবু প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া হয়নি। নাজমুলের বাবা আব্দুল মালেকের অভিযোগ, ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার ছেলেকে মারধর করেছে এবং বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করেছে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই ইজাজুল হক পাবনা সদর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। তিনি বলেন, প্রকৃত দায় হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার। কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিলে এমন ঘটনা ঘটত না।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
হাসপাতালের নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট রেখা আক্তার বলেন, মানসিক রোগীরা হঠাৎ সহিংস হয়ে উঠতে পারেন। সীমিত জনবল দিয়ে রাতের বেলা এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। হাসপাতালের পরিচালক শাফকাত ওয়াহিদ বলেন, অতি ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের জন্য আলাদা আইসোলেশন বা বিশেষ ব্যবস্থা দ্রুত উন্নয়ন করা প্রয়োজন।