রাজধানীর শাহবাগ থানা এলাকার পৃথক ফুটপাত থেকে রবিবার সকালে দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত লাশ দুটি আনন্দবাজার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের সামনে ফুটপাত থেকে পাওয়া যায়।
শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আল মামুন জানান, পথচারীরা দুই ব্যক্তিকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ দুটি উদ্ধার করে। বেলা ১১টার দিকে দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, নিহতদের একজনের বয়স আনুমানিক ৫৫ বছর, আর অপরজনের বয়স ৬০ বছরের মতো হতে পারে। শাহবাগ থানার পুলিশ মৃত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহতদের পরিচয় বের করতে পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা দল কাজ করছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও প্রেক্ষাপট চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বিগ্ন এবং বলেন, কেন্দ্রীয় শহরের ব্যস্ততম এলাকায় এমন ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার প্রতি প্রশ্ন তোলে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সত্যতা ও হত্যা বা দুর্ঘটনা সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করা হবে।
ঢাকা শহরে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের এমন মৃতদেহ উদ্ধার প্রায়শই শহরের জনবহুল এলাকা ও সড়কপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মানসিক চাপ এবং অপরাধ প্রবণতার প্রেক্ষাপট ফুটিয়ে তোলে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে হত্যা, দুর্ঘটনা, অথবা প্রাকৃতিক কারণে মৃত্যু—সঙ্গে সঙ্গে পরিচয় শনাক্তের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
তথ্যসূত্রে জানা গেছে, শাহবাগ থানার পুলিশ এবং ডিএমপি সদর দফতর মিলে দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ফুটপাত ও আশপাশের এলাকা তল্লাশির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড বা দুর্ঘটনার কারণ বের করা হচ্ছে।
ময়নাতদন্তে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণ করা হবে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনো অপরাধ বা প্রাকৃতিক মৃত্যুর যোগসূত্র থাকলে তা প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এ ঘটনা রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকায় জনসাধারণের নিরাপত্তা, পথচারীর সচেতনতা এবং শহর পুলিশিং ব্যবস্থার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। পুলিশ আশা করছে, দ্রুত তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের কারণ প্রকাশ পাবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।