জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহতের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আদালত। এর ফলে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় জামিন পেলেও আপাতত তার কারামুক্তি আটকে গেল।
রবিবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ৭ জুন দুদকের একটি মামলায় আপিল বিভাগ থেকে জামিন পান ড. আবুল বারকাত। পাসপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার শর্তে তার জামিন মঞ্জুর করা হয়। তবে একই দিন ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক আমজাদ হোসেন তালুকদার ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ১৪ জুন দিন ধার্য করেছিলেন।
রবিবার শুনানির সময় আবুল বারকাতকে আদালতে হাজির করা হয়। তার আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম গ্রেফতার না দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।
আবুল বারকাতের আইনজীবী বাবুল মিয়া বলেন, কারামুক্ত হতে হলে তাকে এই মামলায় জামিন পেতে হবে। এ জন্য জামিন আবেদন করা হয়েছে। সোমবার এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
ডিবির আবেদনে অভিযোগ করা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রতিহত করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ড. আবুল বারকাতসহ অন্য আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে উসকানিমূলক বক্তব্য, নির্দেশনা, অর্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহের মাধ্যমে পরিকল্পনা করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিউমার্কেট থানাধীন নীলক্ষেত এলাকায় মিছিলে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহত হন। এ ঘটনায় তার শ্যালক আব্দুর রব নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলা করেন।