নিজস্ব প্রতিবেদক
একসময় দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পুলিশ কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন বেনজীর আহমেদ। ঢাকা মহানগর পুলিশ, র্যাব এবং বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করা এই সাবেক আইজিপি এখন দুর্নীতি, অর্থপাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জন, জমি দখল ও মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক অভিযোগের মুখে।
দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যমে তার বিপুল সম্পদ ও প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের অভিযোগ প্রকাশ হলেও আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু হয় ২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল। ওই দিন দুর্নীতি দমন কমিশন তার সম্পদ অনুসন্ধানে বিশেষ দল গঠন করে। এর দুই সপ্তাহ পর ৪ মে রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দুবাইয়ের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন তিনি।
দুদকের মামলার নথি অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে প্রায় ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বেনজীরের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ২ কোটি ৬২ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার স্ত্রী জীশান মীর্জা, দুই মেয়ের বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে গুলশানের চারটি ফ্ল্যাট, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব, ১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, তিনটি বিও হিসাব ও ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রের তথ্য পাওয়া যায়। আদালতের নির্দেশে এসব সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।
বেনজীরের বিরুদ্ধে দুদকের অন্তত চারটি বড় মামলা বিচারাধীন। পাশাপাশি শাপলা চত্বর অভিযান এবং র্যাবের টিএফআই সেলে গুম-গোপন আটক সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাতেও তাকে আসামি করা হয়েছে।
গত ১২ জুন দুবাইয়ে তাকে গ্রেফতারের তথ্য জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রত্যর্পণ, আদালত ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। ফলে গ্রেফতার হলেও দেশে ফেরানো সহজ হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।