কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রতিবেশীর শিশুসন্তান হত্যা মামলায় অভিযুক্ত মায়ের সঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে দেড় মাস ধরে রয়েছে দুই বছরের এক শিশু। গত ১ মে থেকে শিশুটি কারাগারের নারী ওয়ার্ডে মায়ের সঙ্গে বন্দি পরিবেশে জীবন কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম কারাগারের জেলার এজি মাহমুদ।
কারা সূত্র জানায়, চিলমারী উপজেলার আলোচিত শিশু আয়শা হত্যা মামলার প্রধান আসামি এক নারী তার দুই বছর বয়সী সন্তানসহ কারাগারে আছেন। গত ১ মে পুলিশ ওই নারী ও তার স্বামীকে গ্রেফতার করে। পরে নারী আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে মামলার সূত্রে জানা গেছে। এর আগে ১৭ এপ্রিল নিজ বাড়ির পাশে শিশু আয়শার মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা।
এদিকে কারাবন্দি মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের সংখ্যা ও সার্বিক অবস্থা জানতে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কারাগারে থাকা শিশুদের নিরাপত্তা, কল্যাণ, পুষ্টি ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। সোমবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
কুড়িগ্রাম কারাগারের দুটি নারী ওয়ার্ডের ধারণক্ষমতা ১৮ জন। তবে বুধবার সকাল পর্যন্ত সেখানে ২১ নারী বন্দি ছিলেন। তাদের মধ্যে মাদক মামলায় ৯ জন, হত্যা মামলায় ৮ জন, এনআই অ্যাক্ট মামলায় ২ জন এবং মারামারির মামলায় ১ জন রয়েছেন।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটিকে কারাবিধি অনুযায়ী খাবার দেওয়া হচ্ছে। মায়ের দুধের পাশাপাশি তার জন্য দুধ, ডিমসহ শিশুখাদ্য সরবরাহ করা হয়।
রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার কামরুন নাহার মাহমুদ বলেন, মায়ের বন্দিত্ব যেন শিশুর বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সেটিই এই আইনি পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
তিনি জানান, কারাবিধি অনুযায়ী সাধারণ ক্ষেত্রে চার বছর এবং বিশেষ বিবেচনায় ছয় বছর বয়স পর্যন্ত শিশু মায়ের সঙ্গে থাকতে পারে। তবে কারাগারের সীমাবদ্ধ পরিবেশে একটি শিশুর বেড়ে ওঠা তার মানসিক জগতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলা, নিরাপদ পরিবেশ ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। আদালতের নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনের অপেক্ষা চলছে। শিশু অধিকার কর্মীরাও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। এখন প্রয়োজন দ্রুত পদক্ষেপ।