ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা এলাকায় স্বামীকে বেঁধে এক গৃহবধূকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নারী এক সন্তানের মা। ঘটনার পর বুধবার তার মা বাদী হয়ে আটজনকে অভিযুক্ত করে পাগলা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, তারা একই ঘরের দুটি কক্ষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকেন। এক কক্ষে তার মা এবং অন্য কক্ষে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে তিনি ছিলেন। রাত ১টার দিকে মুখ বাঁধা অবস্থায় আটজন ঘরে ঢোকে। তারা তাকে মারধর করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। এ সময় তার স্ত্রী বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাকে জোর করে ঘর থেকে বের করে নিয়ে যায়।
তার অভিযোগ, বাড়ি থেকে প্রায় দেড়শ মিটার দূরে নিয়ে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। পরে স্বজনরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী নারীকে চিকিৎসা ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।
পুলিশ বলছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। ভুক্তভোগীর মেডিক্যাল রিপোর্ট, সাক্ষ্য ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়দেরও তদন্তে সহায়তা করতে বলা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গভীর রাতে ঘরে ঢুকে এমন ঘটনা ঘটায় এলাকায় নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভয় তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাতের টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রেখে মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। অভিযোগ প্রমাণে প্রয়োজনীয় আলামত সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পরিবারকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেবে পুলিশ।