মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে নিজ বাড়ির উঠানে সোহেল মুন্সী নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার গভীর রাতে উপজেলার গাওদিয়া ইউনিয়নের কালুরগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। এ সময় তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলেও আগুন দেওয়া হয়।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, বুধবার রাতে খাবার খেয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন সোহেল। তার স্ত্রী নুপুর সন্তানকে নিয়ে পাশের ঘরে শাশুড়ির সঙ্গে ঘুমাচ্ছিলেন। গভীর রাতে বাড়ির উঠানে আগুন দেখতে পান সোহেলের স্ত্রী ও মা। পরে তারা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে দেখেন, উঠানে সোহেলের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে আছে। পাশে তার মোটরসাইকেলে আগুন জ্বলছিল।
খবর পেয়ে ভোরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে সোহেলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। স্বজনরা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
মুন্সিগঞ্জ শ্রীনগর-সিরাজদিখান সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনিছুর রহমান জানান, গভীর রাতে সোহেলকে ঘর থেকে বের করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর ধরন ও আঘাতের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি হত্যার কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
নিহত সোহেলের বয়স ৩৯ বছর। তিনি স্থানীয়ভাবে ভাঙারি ব্যবসা করতেন। পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার আগে তিনি স্বাভাবিকভাবেই বাড়িতে ছিলেন। গভীর রাতে কীভাবে তাকে ঘর থেকে বের করা হলো, সে বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ বাড়ির উঠান, পুড়ে যাওয়া মোটরসাইকেল এবং আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ করেছে। স্থানীয়দের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যক্তিগত বিরোধ, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব বা অন্য কোনও কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হয়েছে পুলিশের।