নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্যা পলাশ। শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই পলাশ লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছিলেন। দীর্ঘ চিকিৎসাচেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো যায়নি।
এর আগে গত ১২ জুন রাজধানীর রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন কাইল্যা পলাশ। জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে গুলি চালানো হয়। গুলিটি তার মাথায় লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি সড়কে লুটিয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করেন।
প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও তার অবস্থার উন্নতি হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কাইল্যা পলাশ দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ২২ বছরের বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আবারও আলোচনায় আসেন।
তাকে গুলি করার ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। হামলায় কারা জড়িত এবং কী কারণে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল, সে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তার মৃত্যুর পর মামলার ধারা ও তদন্তের অগ্রগতি নতুনভাবে পর্যালোচনা করা হতে পারে। পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, গুলির ঘটনার পর রামপুরা ও হাতিরঝিল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়। পলাশের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরও হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ। ময়নাতদন্ত, সুরতহাল এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যক্তিগত বিরোধ, পুরনো দ্বন্দ্ব বা অপরাধজগতের অভ্যন্তরীণ বিরোধ—সব দিকই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এখন।
পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কাউকে গ্রেফতারের তথ্য জানানো হয়নি বলে জানা গেছে এখনও।