দেশজুড়ে আলোচিত রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম আবারও গ্রেফতার হয়েছেন। অভিযোগ, করোনাকালে তিনি রোগীদের নমুনা পরীক্ষা না করে ভুয়া রিপোর্ট প্রদান করেছেন এবং সাধারণ মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে বিভ্রান্ত করেছেন।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর ইসিবি চত্ত্বর এলাকা থেকে পুলিশ সাহেদকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। করোনাকালে বহু রোগীকে ভুয়া রিপোর্টের মাধ্যমে বিভ্রান্ত করার ঘটনায় সাহেদ দেশের স্বাস্থ্যে অবিশ্বাস্য ক্ষতি করেছেন বলে জানা গেছে।
গ্রেফতারের পর পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্র জানায়, তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সাহেদ দেশে বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ভুয়া কার্যক্রম চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চিত করেছে, এ ধরনের প্রতারণা পুনরায় ঘটতে না পারে, সেই লক্ষ্যে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা যায়, সাহেদ আগে থেকেই তদন্তের আওতায় ছিলেন। পুনরায় গ্রেফতার হওয়ার ফলে এই তদন্তকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। স্বাস্থ্য সেবার স্বচ্ছতা এবং রোগীর অধিকার রক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্য ও সঠিক তথ্য প্রদান অত্যন্ত জরুরি। যে কোনো ধরনের ভুয়া রিপোর্ট রোগীর জীবন ও চিকিৎসা প্রক্রিয়াকে বিপন্ন করতে পারে। সাহেদের এই পুনরায় গ্রেফতার দেশবাসীকে সতর্কতার বার্তা দিচ্ছে।
রিজেন্ট হাসপাতাল এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার জন্য প্রশাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। এই পদক্ষেপ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে।
এ ঘটনায় চিকিৎসা সেবার মান, রোগীর অধিকার এবং প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। দেশের জনগণ আশা করছে, তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ভুয়া কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।