রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতারণার অভিযোগে বিটিএল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাকরি দেওয়া, ব্যবসায় বিনিয়োগ, গাড়ি কেনাবেচা এবং কোরবানির গরু কেনার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শনিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার আল আমিন হোসাইন। তিনি বলেন, টানা ১৮ ঘণ্টার অভিযান শেষে শনিবার বেলা দেড়টার দিকে গুলশান-১ এলাকা থেকে আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আবুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। কখনও চাকরির প্রলোভন, কখনও আসামি মুক্ত করার আশ্বাস, আবার কখনও ভুয়া ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে তিনি প্রতারণা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গাড়ি কেনাবেচা এবং কোরবানির পশু কেনার নামেও তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ডিএমপি জানায়, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর গাড়ি কেনাবেচার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আবুল বাশারের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় প্রতারণার মামলা হয়। এছাড়া বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তাকে ধরতে পুলিশ বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালালেও তিনি বারবার স্থান পরিবর্তন করে পালিয়ে যাচ্ছিলেন।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, তিনি গুলশান-১ এলাকার একটি বাড়িতে অবস্থান করছেন। শুক্রবার রাতে সেখানে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি বাসার ভেতরে থাকা একটি সুড়ঙ্গে আশ্রয় নেন। পরে দীর্ঘ চেষ্টার পর তাকে সেখান থেকে পাকড়াও করা হয়।
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রতারণার অর্থ কোথায় গেছে এবং আরও কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হবে। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগও যাচাই করছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতারণার ধরন ও ভুক্তভোগীর সংখ্যা নির্ধারণে আলাদা তালিকা করা হচ্ছে। যাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, তাদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হবে। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র, ব্যাংক লেনদেন ও যোগাযোগের তথ্যও পর্যালোচনা করা হবে। পুলিশ বলছে, মামলাগুলোর তদন্ত সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে, যাতে ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য যাচাই করা যায়। এ বিষয়ে আরও অভিযান চলতে পারে। শিগগির।