বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. আরিফ হোসেন (৪৪) দীর্ঘ ১৬ বছর পালিয়ে থাকার পর গ্রেফতার হয়েছেন। শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে খুলনা মহানগরীর খালিশপুর এলাকা থেকে র্যাব-৬-এর সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ।
গ্রেফতার হওয়া আরিফ হোসেন বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের ভূতেরদিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল হাই আকনের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, ২০০৩ সালে দায়ের হওয়া অস্ত্র মামলায় ২০১০ সালে তাকে আদালত দোষী সাব্যস্ত করে অস্ত্র আইনের ১৯-ক ধারায় সাজা দেন। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘদিন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা সম্ভব না হওয়ায় তাকে ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
সম্প্রতি আদালত থেকে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাবুগঞ্জ থানায় পৌঁছালে থানার ওসি মিজানুর রহমান হাওলাদার তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। এরপর এএসআই ইভেন মাহাদী তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ধারাবাহিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে আরিফ হোসেনের অবস্থান নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আরিফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে খুলনার খালিশপুর এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। নিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতে এএসআই ইভেন মাহাদীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে র্যাব-৬, খুলনার সহযোগিতায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর তাকে বাবুগঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হয় এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাবুগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, “দীর্ঘদিন পলাতক থাকা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা নজরদারি এবং আন্তঃজেলা সমন্বয়ের মাধ্যমে যেখানেই তারা আত্মগোপনে থাকুক না কেন, আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।”
এই গ্রেফতারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামির বিরুদ্ধে আদালতের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পথ সুগম হয়েছে। অভিযানে ব্যবহৃত তথ্যপ্রযুক্তি ও আন্তঃজেলা সমন্বয় প্রমাণ করেছে যে, আধুনিক গোয়েন্দা কৌশল ব্যবহার করে পলাতক আসামিকে ধরার ক্ষেত্রে পুলিশ ও র্যাব কতটা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।