মৌলভীবাজারের শেরপুরে পৃথক অভিযানে ভারতীয় পণ্যসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি ট্রাক ও একটি যাত্রীবাহী বাস জব্দ করা হয়। সোমবার সকালে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাত ১১টার দিকে শেরপুর চত্বরে এসআই ওবায়দুল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় যশোর নম্বরের একটি ট্রাক আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে ট্রাক থেকে ভারতীয় চকোলেট ও মেনটোস জব্দ করা হয়। জব্দ করা এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮২২ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ট্রাকে থাকা দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার সদর থানায় চোরাচালান আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পণ্যগুলোর উৎস, গন্তব্য এবং চোরাচালান চক্রে আরও কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে রবিবার সকাল ৮টার দিকে একই এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ‘কাফি ট্রাভেলস’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তল্লাশির সময় বাস থেকে ৩৭২টি ভারতীয় কম্বল জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে সদর থানায় আরেকটি মামলা করা হয়েছে।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম জানান, জব্দ করা মালামাল ও যানবাহনের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ লাখ টাকার বেশি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ বলছে, সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় মৌলভীবাজারের বিভিন্ন পথে অবৈধভাবে ভারতীয় পণ্য আনার চেষ্টা করে চোরাকারবারিরা। এসব পণ্য পরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়। চোরাচালান প্রতিরোধে শেরপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ পণ্য পরিবহন, কর ফাঁকি ও চোরাচালান বন্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে। সন্দেহজনক যানবাহনে তল্লাশি এবং চোরাচালান চক্র শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আটক ট্রাক ও বাসের কাগজপত্রও যাচাই করা হচ্ছে। পণ্যগুলো বৈধভাবে আমদানি করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদেরও সতর্ক করা হয়েছে। অভিযান চলবে বলেও জানানো হয়েছে।