রাজধানীর ধানমন্ডিতে ১১ তলা ভবন থেকে পড়ে শিশু গৃহকর্মী রিক্তা মণির মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী ফারাহ নুসরাতকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বাশার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মামলায় গ্রেপ্তারের পর আদালত আসামি দম্পতির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার এসআই শাহনেওয়াজ তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে ধানমন্ডির ৯/এ নম্বর সড়কের একটি আবাসিক ভবনের ১১ তলা থেকে রিক্তা মণি পড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির বাবা মো. শাহিন মিয়া ধানমন্ডি মডেল থানায় মামলা করেন। তার অভিযোগ, আসামিরা নির্যাতনের পর রিক্তা মণিকে ১১ তলা থেকে ফেলে হত্যা করেছেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন চেয়ে আদালতে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই এবং তারা ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত নন।
রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে জানায়, ঘটনাটি গুরুতর এবং মামলার তদন্ত চলছে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সবিবুর রহমান ও ফারাহ নুসরাতকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ বলছে, শিশুটির মৃত্যুর কারণ, ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি এবং বাসার ভেতরে কী ঘটেছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষ্য ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনার পর মামলার পরবর্তী অগ্রগতি নির্ধারণ করা হবে।
এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার ন্যায়বিচার দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, রিক্তা মণি ওই বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত এবং মৃত্যুর আগে তাকে নির্যাতন করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের প্রতিটি দিক যাচাই করা হচ্ছে। ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ, বাসার সদস্যদের বক্তব্য, প্রতিবেশীদের তথ্য এবং হাসপাতালের নথিও সংগ্রহ করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বা নির্দোষ বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মামলাটি এখন তদন্তাধীন রয়েছে এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় আছে। আইনি প্রক্রিয়া চলবে নিয়ম অনুযায়ী।