চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে আদালত প্রাঙ্গণে মারধর করেছে ক্ষুব্ধ জনতা। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে সিলেট আদালত প্রাঙ্গণে হাজতখানা থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।
আদালত সূত্র জানায়, নির্ধারিত তারিখে মামলার শুনানির জন্য সকালে জাকির হোসেনকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। পরে তাকে ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার সময় উপস্থিত কিছু লোক উত্তেজিত হয়ে তার ওপর চড়াও হন এবং মারধরের চেষ্টা করেন। তবে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আসামিকে নিরাপদে আদালতে হাজির করে।
পরবর্তীতে তাকে আবার জেলহাজতে পাঠানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এদিকে আলোচিত এ মামলায় মাত্র এক মাস পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে জাকির হোসেন ছাড়াও তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে শিশুটিকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে তার দুই ভাইকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৬ মে শিশুটি নিখোঁজ হয় এবং ৮ মে সকালে একটি ডোবার পাশে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ মে রাতে প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে আসামি ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে। তদন্তে বলা হয়, শিশুটিকে একটি দোকান থেকে সিগারেট আনতে পাঠানোর পর তাকে ঘরে ডেকে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে ঘটনা ঘটে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মনজুরুল আলম বলেন, আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজিত জনতা আসামির ওপর হামলার চেষ্টা করেছিল, তবে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি জানান, আসামিকে নিরাপদে আদালতে হাজির করে পরে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ বলছে, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির দিকে এগোচ্ছে এবং আদালতের প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।