শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আরও ৪০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বর এবং দেশের চারটি জেলায় হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ‘হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ ঘটনা ঘটেছে। ট্রাইব্যুনালের দ্বিতীয় বেঞ্চে এ মামলার শুনানি নির্ধারিত হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আজিজ আহমেদ, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, শহীদুল হক এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা রয়েছেন। অভিযোগপত্রে ৫৮টি হত্যাকাণ্ডের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা কারাগারে রয়েছেন, যার মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান, আবদুল জলিল মণ্ডল এবং শাহরিয়ার কবির অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও চলতি বছরের ১৪ মে মামলায় সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপা গ্রেপ্তার হয়েছেন।
মামলাটির প্রেক্ষাপট হলো, শাহবাগের আন্দোলনের বিপরীতে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ডাকা হয়, যা ঘিরে সহিংসতা ও তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে। এরপর রাতে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে সমাবেশস্থল থেকে মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যায়। ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট শাপলা চত্বরের ঘটনার অভিযোগ আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে জমা পড়ে।
ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তে মোট ৫৮টি হত্যাকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগপত্রে স্বরাষ্ট্র, পুলিশ, র্যাব ও রাজনৈতিক নেতাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই মামলার শুনানি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দ্বিতীয় বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিচার প্রক্রিয়া ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে। মামলাটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।