আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গঠিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ১০ সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে বাংলাদেশ জেল-প্রিজন ভ্যানে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। নিরাপত্তা জোরদার করা হয় ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায়।
হাজির করা সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরপ্রাপ্ত), কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।
মামলায় পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এম খুরশিদ হোসেন এবং ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদসহ মোট সাতজন।
ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি পরিচালনা করবেন। প্রসিকিউশনের শুনানির পরে আসামিপক্ষ এবং পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।
আদালত অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের ভার্চুয়ালি হাজির করার আবেদন নাকচ করে তাদের সশরীরে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলা পরিচালনা চলাকালীন এই উপস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই মামলার রায় এবং অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া দেশের মানবাধিকার ও সামরিক নির্যাতন বিষয়ে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের গুরুত্ব এবং নজরদারির মান বৃদ্ধি করবে।