বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। নতুন নীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৬.৮ শতাংশ ধরা হয়েছে, যা আগের ৮.৫ শতাংশের চেয়ে কম। মে পর্যন্ত বাস্তবায়িত ঋণ প্রবৃদ্ধি মাত্র ৪.৯৮ শতাংশ হওয়ায় প্রাক্কলন হ্রাস করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নীতি সুদহার (পলিসি রেট) আগের মতোই ১০ শতাংশ রাখা হয়েছে।
মুদ্রানীতি প্রকাশ অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর হাবীবুর রহমান জানান, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬-৭ শতাংশ হওয়া উচিত হলেও বর্তমানে তা ৪-৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। নতুন নীতির আওতায় স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি ১১.৫০ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি ৭.৫০ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকবে।
গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানান, খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী ১৮ মাসের কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদি খেলাপি ঋণগ্রহীতারা এককালীন অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে ঋণ নিষ্পত্তি করতে পারবে। পুনঃতফসিলিকরণ এ নীতিতে উৎসাহিত নয়। আগামী বছরের জন্য অর্থঋণ আদালত আইন ও সংকটাপন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি চলছে। নতুন আইন বাস্তবায়িত হলে ক্ষতিকর সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যেই ইসলামী ব্যাংককে ১৩ হাজার কোটি টাকা লিকুইডিটি সহায়তা প্রদান করেছে। ব্যাংক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করতে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো ধরনের ব্যত্যয় বা অনিয়মে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রযোজ্য হবে।
নতুন নীতিতে সরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানো হবে। সরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ২০২৭ সালের জুনে ১৭.২ শতাংশে নেমে আসার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। অর্থ সরবরাহও নিয়ন্ত্রিতভাবে সম্প্রসারণ করা হবে; ব্রড মানি ২০২৭ সালের জুনে ১৩ শতাংশে পৌঁছানোর আশা।
বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, নতুন নীতির বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়বে, খেলাপি ঋণ কমবে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রফতানি আয় উন্নতির সঙ্গে স্থিতিশীল বিনিময় হার নিশ্চিত করবে।
সংক্ষেপে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি দেশের অর্থনীতিতে নিয়ন্ত্রিত ঋণ প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্য প্রতিফলিত করছে।