ইরান যুদ্ধ, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং মূল্যস্ফীতির চাপের কারণে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি আরও ধীর হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির মতে, চলমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
আইএমএফের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এর আগে গত এপ্রিলে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ১ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিষয়ক সামরিক পদক্ষেপ এবং এর জবাবে ইরানের পাল্টা আঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব কাটিয়ে ওঠার আগেই বিশ্ব অর্থনীতি নতুন সংকটের মুখে পড়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজে হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের কারণে বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৪ দশমিক ১ শতাংশ।
তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, নানা সংকটের মধ্যেও বিশ্ব অর্থনীতি কিছুটা স্থিতিশীলতা ধরে রেখেছে। বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রত্যাশার তুলনায় প্রবৃদ্ধি ভালো ছিল। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের অগ্রগতি অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
আইএমএফ বলেছে, যুদ্ধের প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করলেও এখন পর্যন্ত তা আশঙ্কার তুলনায় কিছুটা ভালোভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে। তবে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা দীর্ঘ হলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।