মাত্র পাঁচ মাসে দেশের ৭ লাখের বেশি কৃষকের ৬০৪ কোটি ৮১ লাখ টাকার কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি)। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এই ঋণ মওকুফ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক জানায়, দেশের ৪৮টি জেলার মোট ৭ লাখ ৯ হাজার ৬৭৯ জন কৃষক এই সুবিধার আওতায় এসেছেন। তথ্য যাচাই-বাছাই ও হিসাব সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগী কৃষকদের চিহ্নিত করে ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।
কৃষি ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের ঘোষিত কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির প্রায় ৩৯ শতাংশ এককভাবে বাস্তবায়ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। দেশের মোট কৃষিঋণের প্রায় ৬৩ শতাংশ বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ করা হয় বলেও জানানো হয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সুবিধার আওতায় শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতের কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। এর মাধ্যমে প্রায় ১২ লাখ কৃষক উপকৃত হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী থাকা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ঋণ তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করেছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বাজার পরিস্থিতির অবনতি এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি।
ঋণ মওকুফের ফলে এসব কৃষক আবার নিয়মিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আসার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নতুন করে কৃষিঋণ নিয়ে কৃষি উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সঞ্চিয়া বিনতে আলী বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে কৃষকদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে ঋণ মওকুফ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ঋণের দায় থেকে মুক্ত হয়েছেন এবং নতুনভাবে কৃষিকাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) কৃষি ব্যাংকের কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। তবে এ সময়ে ব্যাংকটি ৯ হাজার ৮১ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করেছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ২৮১ কোটি টাকা বেশি।