বাংলাদেশ সরকার দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করেছে। এই দুই কার্গোর জন্য সরকারি ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৩৫৫ কোটি টাকা, যা গত দুই মাসের গড় এলএনজি আমদানির খরচের তুলনায় কিছুটা কম।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এলএনজির দাম আগে প্রতি কার্গো ৮০০ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তবে এবার কার্গো প্রতি গড়ে খরচ হয়েছে ৭০০ কোটি টাকার নিচে। এই আমদানি সিঙ্গাপুরভিত্তিক অ্যারামকো ট্রেডিং ও গানভর সিঙ্গাপুর কোম্পানির মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
এর আগে জুন মাসে সরকার একই প্রক্রিয়ায় তিন কার্গো এলএনজি আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা ২,১১২ কোটি টাকার ব্যয়ে সম্পন্ন হয়। চলতি মাস ও আগের মাসেও কয়েকটি কার্গো এলএনজি ক্রয় করা হয়েছিল, যার গড় খরচ আরও বেশি ছিল।
সরকারের ক্রয় কমিটি বুধবারের সভায় শুধু এলএনজি নয়, দুই কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন ও সয়াবিন তেল, ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার, ২৫ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার, ২৫ হাজার টন প্রিল্ড ইউরিয়া সার, সাড়ে ১২ হাজার টন মসুর ডাল, এবং ১০ হাজার টন স্থানীয় মসুর ডাল আমদানি ও সংগ্রহের অনুমোদন দিয়েছে।
সেই সঙ্গে মরক্কো থেকে ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন এবং গভীর সমুদ্রে টুনা ও পেলাজিক মাছ আহরণের পাইলট প্রকল্পের জন্য আন্তর্জাতিক পরামর্শক নিয়োগের সিদ্ধান্তও হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদক্ষেপ দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে, খাদ্য ও সার আমদানি নিশ্চিত করতে এবং সমুদ্র সম্পদ আহরণের ক্ষেত্রে আধুনিক উদ্যোগ গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।