মধ্যপ্রাচ্যে চলা যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে সরবরাহ ও উৎপাদন প্রভাবিত হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি পোশাক খাতের ব্যয় বাড়িয়েছে। বিশেষ করে স্পিনিং, নিটিং এবং ডাইং মিলগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যেগুলো প্রায় ৯৫ শতাংশ উপসাগরীয় তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল।
গত ৬ জুন আল-মুসলিম গ্রুপের নিটওয়্যার ও ডেনিম কারখানায় প্রায় ১,৯০০ শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ কাজ করেন, যাদের মধ্যে বড় অংশই নারী। পোশাক খাত দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ এবং জিডিপিতে ১৩ শতাংশ অবদান রাখে। তবে, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ৪০০টির বেশি কারখানা বন্ধ হয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহও বিঘ্নিত হয়েছে; ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় দিনে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং হয়েছে। চট্টগ্রামের কিছু অঞ্চলে আট ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বেশিরভাগ কারখানা ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করছে, যা উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়াচ্ছে। ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ।
বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিয়েছে; এক জ্যাকেট কারখানার মালিক বলেন, যুদ্ধের পর ক্রয়াদেশ ২০ শতাংশ কমেছে। তেলের মূল্যবৃদ্ধি কাঁচামালের দাম বাড়িয়েছে। পোশাক তৈরির মোট খরচের ৬৫ শতাংশ যায় কৃত্রিম তন্তু, রং, ফিনিশিং কেমিক্যাল, প্লাস্টিক বোতাম ও চেইনে, যা পেট্রোকেমিক্যালনির্ভর।
সরকার মে মাসে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যেখানে পোশাক খাতকে প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে ঋণের সুদহার প্রায় ৭ শতাংশ। কোভিড মহামারির প্রভাব এখনও কাটেনি, ফলে বড় ব্র্যান্ডগুলো দাম বাড়াতে রাজি নয়।
ফলশ্রুতিতে, জানুয়ারি থেকে অন্তত ৯,৫০০ শ্রমিক ৮০টি কারখানায় চাকরি হারিয়েছেন। শ্রমিকরা পুনরায় কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। নারী শ্রমিক সামলী খাতুনের মতে, নতুন কাজ পাওয়া কঠিন এবং গ্রামে ফিরে যেতে হতে পারে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকখাত বর্তমানে আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনে যে চাপে আছে, তা দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া ক্ষতির মাত্রা বাড়তে পারে।