চট্টগ্রামে চলতি জুলাই মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে, যা টানা বর্ষণ ও জমে থাকা পানি থেকে এডিস মশার প্রজননের কারণে আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের জরিপ অনুযায়ী, গত জুনে নগরের ১০০টি বাড়ির মধ্যে ২৭টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বৃষ্টির পানি জমায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় মশার প্রজনন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিদিন গড়ে ১২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত নগরে মোট ৪৬২ জন রোগী আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৬৪ জন হাসপাতালে ভর্তি।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, প্রতি বছর জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি থাকে। নগরের আটটি ওয়ার্ড—উত্তর কাট্টলী, পাঁচলাইশ, জালালাবাদ, পশ্চিম বাকলিয়া, দক্ষিণ বাকলিয়া, দক্ষিণ হালিশহর, পাথরঘাটা ও আন্দরকিল্লা—এডিস মশার অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই এলাকায় বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০০ শয্যার নতুন ডেঙ্গু ওয়ার্ড এবং চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ২০ শয্যার ডেঙ্গু ব্লক এ রোগীদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অন্যান্য হাসপাতালে অন্তত ১০–১৫ বেড ডেঙ্গু রোগীদের জন্য রাখা হয়েছে।
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এবারের ডেঙ্গু ধরন আগের চেয়ে ছদ্মবেশী, যেখানে সামান্য জ্বর বা দুর্বলতার পরও রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে পারে। বিশেষ করে জ্বর কমার পরের তিন দিন খুব ঝুঁকিপূর্ণ। প্লাটিলেট কমে যাওয়া, রক্তচাপ কমা, লিভার, কিডনি বা মস্তিষ্কের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চট্টগ্রামের ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ৯৫% চিকিৎসা নিচ্ছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে। চিকিৎসকদের মতে, নগরের বাকলিয়া, বায়েজীদ, হালিশহর ও আন্দরকিল্লা এলাকার রোগী বেশি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৃষ্টি ও উচ্চ তাপমাত্রা ডেঙ্গুর বিস্তারে সরাসরি প্রভাব ফেলে। সাধারণত বৃষ্টি হওয়া থেকে ২৮ দিন পর্যন্ত মশার প্রকোপ থাকে। সিভিল সার্জন কার্যালয় ও সিটি করপোরেশন প্রজনন নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, আশা করা যায় এবারের ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা কম হবে। তবে জনসাধারণকেও সচেতন থাকা প্রয়োজন।