সারাদেশে একযোগে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ আজ রবিবার শুরু হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পরিচালিত এ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই উদ্যোগ মূলত শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নেওয়া হয়েছে।
ঢাকার আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারের নিচতলায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, ভিটামিন ‘এ’ বাচ্চাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। “ছয় মাসের নিচে বা ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস পর্যন্ত শিশুরা এ ক্যাপসুল খাবে, যা তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করবে,” তিনি উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত সরকারের সময় পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের স্টক ছিল না, যা মিজেলসসহ অন্যান্য টিকার কার্যকারিতা কমিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে ইউনিসেফের মাধ্যমে ২ কোটি ৬০ লাখ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সংগ্রহ করা হয়েছে। আজকের ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ৫৫ লাখ শিশুকে ক্যাপসুল প্রদান করা হবে।
ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি জন্মের পর শিশুরা মায়ের শালদুধ পান করবে, যা ভিটামিন ‘এ’-র একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে কাজ করে। মন্ত্রী বলেন, “ছয় মাস থেকে ১৮০ দিন বয়স পর্যন্ত শিশুদের মায়ের দুধ খাওয়ানো, পানি, মধু, চিনি ও অন্যান্য সুষম খাবার নিশ্চিত করতে হবে। এতে শিশুর শরীরে সুষম পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, ক্যাপসুল এবং অন্যান্য টিকা আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ক্রয় করা হয়েছে এবং উন্নতমানের টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে যাচাই করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সারাদেশে ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন এবং সকল শিশুদের অভ্যন্তরীণ স্থানে পৌঁছে সেবার নিশ্চয়তা দেবেন।
এই জাতীয় উদ্যোগ শিশুদের সুস্থতা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সারাদেশে শিশুদের জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।