চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় বন্যার পানি নামার পর স্থানীয়দের মধ্যে সাপের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বন্যার কারণে ৪০ হাজারের বেশি বসতবাড়ি প্লাবিত হলে সাপ বিভিন্ন প্রজাতির বাসস্থান পরিবর্তন করে বসতঘর, উঠান, রান্নাঘর, গোয়ালঘর ও স্যাঁতসেঁতে স্থানে আশ্রয় নেয়।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জনকে সাপ দংশন করেছে। বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার বেলা ১১টা পর্যন্ত ২২ জন সাপের কামড়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসা শেষে সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
বন্যার সময় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ঘরবাড়ি পরিষ্কার করতে গিয়ে অনেকেই সাপের দংশনের শিকার হয়েছেন। সাম্প্রতিক বন্যায় প্রায় ৪০ হাজার বসতঘরে পানি ঢোকে, যার মধ্যে ১৩ হাজারের বেশি মাটির ঘর ধসে পড়ে এবং কয়েক হাজার টিন বা ছনের তৈরি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ অবস্থায় মানুষ বিভিন্ন প্রজাতির বিষধর ও নির্বিষ সাপের সঙ্গে সংস্পর্শে আসে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমা আক্তার বলেন, সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। তবে কেউ আক্রান্ত হলে ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কারের আশ্রয় না নিয়ে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দ্রুত চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে।
এছাড়া স্থানীয়রা সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘর ও উঠান পরিষ্কার করার সময় সাবধানতার সঙ্গে কাজ করছেন। প্রশাসন এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা বন্যার পর সাপের আতঙ্ক মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছেন।
বাঁশখালীতে সাপের এই বিপর্যয়মূলক পরিস্থিতি স্থানীয়দের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপদ থাকার জন্য প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।