দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১,০৫১ শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও এই সময়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। মৃত্যুর কারণ হিসেবে অন্যান্য জটিলতা বা উপসর্গকে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৯৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৫ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ৭৮৮ শিশুর।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম দিকে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শিশুদের মধ্যে তীব্র জ্বর, শ্বাসকষ্ট, ঘন ঘন বমি এবং পানিশূন্যতার মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসা না হলে উপসর্গ দ্রুত মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
সাবধানতা হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নদী তীরবর্তী এলাকা ও হঠাৎ বন্যা প্রবণ অঞ্চলে বসবাসরত পরিবারের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। শিশুদের জন্য যথাযথ হাইড্রেশন, পর্যাপ্ত খাবার, এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরাসরি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ভর্তি হলে অধিকাংশ শিশু সুস্থ হয়ে উঠছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, সাপোর্টিভ চিকিৎসা ছাড়া বা স্থানীয় ভুল চিকিৎসার কারণে শিশুদের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি পরিস্থিতিতে চিকিৎসা, ওষুধ এবং পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিশুদের মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জনগণকে পুনরায় অনুরোধ করেছেন, হাম ও হামের উপসর্গ দেখা দিলে ঝাড়ফুঁক, কুসংস্কার বা অননুমোদিত চিকিৎসা নয়, নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালেই নেওয়ার জন্য।
এই পরিস্থিতি দেশের শিশু স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক থাকলেও প্রয়োজন আরও তৎপরতা, যাতে মৃত্যু এবং সংক্রমণের হার কমিয়ে আনা যায়।