প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত ও সহজ করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি চিকিৎসকদের আরও আন্তরিক হয়ে রোগীদের সেবা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গ্রামের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা যেভাবেই হোক সহজ করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে যেন কোনো ভোগান্তি ছাড়াই রোগীরা সহজে চিকিৎসা পান। চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও যেতে না হয়। সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়ে ওঠে।”
সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠকে স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান পরিস্থিতি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালের অবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবার সুলভতা বিষয়ে আলোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী অবহেলা বা দায়িত্বে অনিয়মের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
বৈঠকে কিডনি রোগীদের চিকিৎসা প্রসঙ্গে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তিনি জেলা পর্যায়ে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। বর্তমানে যেখানে ১০ শয্যার কেন্দ্র রয়েছে, সেগুলো ৫০ শয্যায় সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের জন্য দক্ষ জনবল ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সরকারি উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীরা এর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল সংক্রান্ত নকশা উপস্থাপন করেন।
বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালক ও শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা প্রান্তিক জনগণকে সরকারি হাসপাতালকে একমাত্র ভরসা হিসেবে দেখতে উদ্বুদ্ধ করবে এবং স্বাস্থ্যসেবায় আরও স্বচ্ছতা ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করবে।